Home / Breaking news / কলেজের ঘর উঠছে এমপিওভুক্তির পর!

কলেজের ঘর উঠছে এমপিওভুক্তির পর!

কলেজের ঘর উঠছে এমপিওভুক্তির পর!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:০৬
কলেজের ঘর উঠছে এমপিওভুক্তির পর!

ধানক্ষেত সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে শুরু হয়েছে ভবণ নির্মাণের কাজ। একেবারে মাঠের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে কলেজের সাইনবোর্ড।

নাম তার ‘নুতনহাট টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ’। ভবণ নেই, নেই শিক্ষার্থী, নেই শিক্ষক, তবুও সেই কলেজের নাম রয়েছে সম্প্রতি ঘোষিত এমপিওভুক্তির তালিকায়। ঘটনাটি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের। মূলত সরকারি সহায়তার বার্তা পেয়েই রাতারাতি তোলা হচ্ছে সেখানে কলেজের ঘর। এরকম আরো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নুতনহাট বাজারের অদূরে হোসনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি জমিতে টানানো হয়েছে কলেজের সাইনবোর্ড । কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নির্মাণ সামগ্রি। মূলত এখানে রাতারাতি কলেজ ভবণ নির্মাণের চেষ্টা চলছে।

কলেজের কোন কার্যক্রম স্থানটিতে ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।   কাগজ কলমে পরিচালনা করা এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি তালিকায় কিভাবে গেল তা নিয়ে তৈরী হয়েছে রহস্য। এমপিওভুক্তির ঘোষনা জেনে বুধবার রাত থেকে নুতনহাট টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। রাতেই ইট গেঁথে ভবনের ভিত্তি কাঠামো দাঁড়া করা হয়। টানিয়ে দেয়া হয় কলেজের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড।

পঞ্চগড় বিসিকনগর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দেলদার রহমান এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে অনেকে জানান।   মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তিনি। আর কলেজটির অধ্যক্ষ তার স্ত্রী শামীমা নাজনীন।

রাতারাতি কলেজ স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে দেলদার রহমান বলেন, ‘আমার ঘর আমি উঠাবো, যখন খুশি তখন উঠাবো। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত। এর আগে টিনশেড ঘরে অধ্যায়ন কার্যক্রম চলতো। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ২’শ জন ছাত্রছাত্রী পড়ছেন। শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬০ জন। পাশ করেছে ৫৮ জন। কাগজে কলমে সব ঠিক রয়েছে। ‘

এদিকে পঞ্চগড় জেলায় এবার ৪ টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান পায়। সেগুলো হচ্ছে – তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চতর মাধ্যমিক বিএম এন্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট,  ভজনপুর নগর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, বোদা উপজেলার নুতনহাট টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ। নুতনহাট টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের মতো না হলেও বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খুব নাজুক বলে জানা গেছে। কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই সেখানে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম।

এমপিওভুক্তির তালিকায় উঠে আসা পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের সন্দেশদিঘি নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও করুণ। সেখানে একটি ভবন থাকলেও তাতে নেই কোন বসার ব্যবস্থা। নেই কোন শিক্ষা কার্যক্রম। ২০১০ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫ জন শিক্ষার্থী। ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ২ জন, ২০১৭ সালে ৫ জন এবং ২০১৮ সালে ১৩ জন অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ বলেন, ‘এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমাদের কোন ভূমিকা নেই। এমপি, সচিব ও মন্ত্রীরা এসব কাজে জড়িত। উনারা কিভাবে এমপিওভুক্তির তালিকা  দিয়েছেন সেটি উনারাই ভাল জানেন। 

  • সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *